লিখেছেন Unknown বার Saturday, January 25, 2014 | 
শীত নিয়ে সারা দেশেই একটি প্রবাদ খুব বেশী জনপ্রিয় তা হলো কারো পৌষ মাস তো কারো সর্বনাশ। এরকম চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলেও শীত নিয়ে একটি আঞ্চলিক প্রবাদ আছে; “মাঘ দুয়ারে বসে হাগ”- অর্থাত মাঘ মাসে এতই ঠান্ডা পড়ে যে, মানুষ সকাল সন্ধ্যা বা রাতের বেলা হাগতে (আঞ্চলিকভাষা)অর্থাত পায়খানা করতে ঘরেই বাইরে যেতে ভয় করতো। কিন্তু দিনদিনি বৈষ্ণিক উষ্ণতা বাড়ার ফলে দাদী নানীর মুখে শোনা চিরায়ত এ প্রবাদটি মিথ্যে হতে বসেছে। ক্যালেন্ডারের হিসেবে পৌষ আর মাঘ মাস শীত কাল হলেও উত্তরাঞ্চলে মুলত শীতের আমেজ শুরু হয় আশ্বিনের শেষে চলে একেবারে চৈত্র মাস অবধি। কিন্তু হাড় কাঁপানো শীত বলতে যা বোঝায় তা অনুভূত হয় পৌষের শেষ সপ্তাহ থেকে মাঘের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। অর্থাত জানুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জানুয়ারীর শেষ পর্যন্ত মোটামুটি ২০-২২দিন। কিন্তু এবারের শীতের চিরায়ত এ আচরণে একবারে ভিন্নরূপ দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারী প্রথম থেকে ১৫ জানুয়ারী পর্যন্ত মাঝারী ধরনের শীত পড়লেও জানুয়ারী ১৬ ও ১৭ হঠাত তাপমাত্রা এতই বেড়ে যায় যে, কোথায় কোথায় দুপুর বেলা মানুষজনকে ফ্যান চালাতে দেখা যায়। তার পরের চারদিন ১৮ ১৯ ২০ ও ২১ জানুয়ারী শীতের তীব্রতা আবার কিছু বাড়লেও ২২ জানুয়ারী থেকে শীতে তীব্রতা কমতে শুরু করে। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারী তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে এতই বেড়ে যায় যে, দুপুর বেলা আবার মানুষজন ফ্যান চালাতে শুরু করে। ক্যালেন্ডারের হিসেবে আজ ২৪ জানুয়ারী ১১ মাঘ। শীতকাল। এখন তীব্র শীতে মানুষের জুবুথুবু থাকার কথা। কিন্তু শীততো দুরে থাক। গরম তাড়াতে দুপুরে মানুষকে ফ্যান চালাতে হচ্ছে। আমি যখন বিকেল চারটায় এ প্রতিবেদন লিখছি তখনো আমার মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে। আবহাওয়ার এ বৈরী আচরণে শীতার্ত মানুষগুলোর উপকার হলেও খুশি হতে পারেনি শীতের পোষাক বিক্রেতারা। জ্যাকেট শুয়েটার মাফলার সহ অন্যান্য শীতের পোষাকগুলো এবার তাদের অনেকগুলোই অবিক্রিত থেকে যাবার সম্ভাবনা আছে। ফলে তাদের আশানুরূপ লাভ হবেনা। অন্যান্য বছর হকার্স মার্কেটের শীতের পোষাকের দোকানগুলোতে এসময় মানুষজনের ভীড় দেখা গেলেও এবার দোকানগুলো প্রায় ক্রেতাশূণ্য
লেখক সম্মন্ধে
খবরটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ, আরও নতুন খবর পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন..
0 comments: